ইকমার্স ব্যবসা শুরুর আগে

 

ইকমার্স-ব্যবসা-শুরুর-আগে, প্রত্যেক ব্যবসা শুরুর একটা চেক লিস্ট থাকে । ইকমার্স এর ক্ষেত্রেও ব্যবসা ভেদে চেক্লিস্ট ভিন্ন ভিন্ন ভাবে হতে পারে । তবে খেয়াল রাখতে হবে ইকো সিস্টেমের কোন কিছুতেই যাতে মনের অজান্তেও কম্প্রমাইজ করা না হয়ে যায় । আমার একান্ত ব্যক্তিগত চর্চায় সাধারন ইকমার্স এর চেকলিস্ট কিছুটা এমনঃ

১. পন্য / সেবা নিয়ে বিস্তারিত জ্ঞান ( ধারনা দিয়ে কাজ চালানোর ধান্দা করা যাবে না )

২. পন্য বা সেবার স্থানীয় বা টার্গেট মার্কেট যাচাই ( বিদেশে চলছে এখানেও চলবে ভাববেন না )

৩. পন্য বা সেবার আইনি কোন বাধা আছে কিনা যাচাই করতে হবে

৪. ব্যবসায় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও তাদের প্রদান প্রতিষ্ঠান ও গ্রহনের প্রসেস নিয়ে খোজ খবর নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে ।

৫. একটি মার্কেটিং প্লান রেডি করতে হবে ( ব্রান্ডিং খালি বুস্ট বুস্ট খেলা নহে )

৬. ডিস্ট্রিবিউশন বা সেবা প্রদানের একটি ফ্লোচার্ট রেডি করতে হবে ( এটা অনেকেই করেন না ) ।

৭. ইউজার ইন্টারফেস বা ওয়েব এর ফ্লোচার্ট রেডি করতে হবে ।

৮. পন্য সোর্সিং এর জন্য কয়েকটি ভেন্ডর / বা ভালো উৎপাদন ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে । সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সেবার ব্যাপারে আত্মতুষ্টি জরুরী ।

৯. একটি বাজেট প্লান করতে হবে ।

১০। একটি বর্ধিত বাজেট করতে হবে – ( কোন কারনে প্রথম বাজেট এ কাজ না হলে সর্বোচ্চ কত টাকা বেশি খরচ করবেন ।

১১. একটি এক্সিট প্লান করতে হবে ।

১২. অফিস বা সেবা প্রদানের ঠিকানা নির্দিষ্ট করুন ।

১৩. ট্রেড লাইসেন্স করে ফেলুন / লিমিটেড হলে পেপার ঠিক ঠাক করুন ।

১৪. ব্রান্ডিং ডক্স রেডি করুন , প্রমোশনাল ডক ও রেডি করুন

১৫. ওয়েব সাইট রেডি করুন ( রেডি মানে রেডি ভাঙ্গা চুরা না )

১৬. ওয়েব যাচাই করান ও ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক নিন

১৭. সোর্স দের সাথে বা শ্রমিকদের সাথে একদিন বসুন এবং লক্ষ্য বর্ননা করুন

১৮. পন্য বা সেবার বর্ননা ( যথাযথ কন্টেন্ট) লিখে ফেলুন এবং ওয়েব ও ব্লগ এ প্রকাশ করুন ।

১৯. সহায়ক সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খুলে ফেলুন

২০. একটি নিজেরা নিজেরা টেস্ট ড্রাইভ করুন ( ৩ থেকে ৫ দিন)

২১. লঞ্চিং এর দিন প্রকাশ করুন ( চাইলে অফার দিতে পারেন ) ২২. যথা সময়ে লঞ্চ করুন

২৩. মার্কেটিং প্লান এক্সিকিউট করুন ( ডানের বামের কথা শুনে বার বার রিফ্লেক্টেড হবেন না ।

২৪. কল সেন্টার ও সাপোর্ট কে ফিডব্যাক অনুযায়ী ট্রেনিং করান

২৫. কাস্টমার ফিডব্যাক নেবার ব্যবস্থা রাখুন

২৬. বিভিন্ন কমিউনিটিতে নিজেদেরকে পরিচিত রাখুন

২৭. অর্ডার আসা শুরু হলে বিসমিল্লাহ বলে সর্বোচ্চ সেবা ( পরিমিত লাভ করুন) । বিপদ এ ব্যবসা করার মানসিকতা পরিহার করুন ।

২৮. অর্ডার না আসলে কর্মিদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সাহস দিন – একেবারে না চললে ৩ থেকে ৫ মাস আগে থেকে কর্মিদের কর্ম রিপ্লেস করার সুযোগ দিন ।

২৯. বাজেট অতিক্রান্ত হলে এক্সিট প্লান বাস্তবায়ন করুন ।

পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা থামাবেন না । মনে রাখবেন প্রতি ১০০ স্টার্টআপ এ ৫ হয়ত সফল হয়। সুতরাং নিজেকে বোকা ভাবার কোন কারন নেই ।

Author

Write A Comment