পরিসংখ্যান-এবং-উপাত্ত

 

পরিসংখ্যান 

ইংরেজী শব্দ (Statistics) এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো পরিসংখ্যান । তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ ,বিশ্লেষণ এবং তা থেকে  প্রয়োজনীয় সিন্ধান্তে পৌছানোর, পর তা সহজে উপস্থাপনাই হলো পরিসংখ্যানের মূল কাজ ।[sc_fs_faq sc_id=”fs_faq17mtm7237″ html=”true” headline=”h2″ img=”” question=”পরিসংখ্যান কি ?” img_alt=”” css_class=”” ]সহজ কথায় বলতে গেলে যে শাস্ত্রে উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তা থেকে তথ্য সমৃদ্ধ সিন্ধান্ত গ্রহণ করা যায় তাকে পরিসংখ্যান বলে ।[/sc_fs_faq]উল্লেখ্য পরিসংখ্যান একধরনের গাণিতিক বিজ্ঞান ।যে কোন ধরনের গবেষণার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের মৌলিক জ্ঞান থাকা অবশ্যক ।

 

বিঃদ্রঃ

অপর দিকে কোন ঘটনা বিষয়ের সংখ্যাত্বক পরিমাপকে পরিসংখ্যানে তথ্য বলা হয় ।

পরিসংখ্যান কেন ব্যবহার করা হয় ?

পরিসংখ্যান ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো  ,কোন বিষয় বা ঘটনার অতীত অভিজ্ঞতার তথ্য ও বর্তমান তথ্যের সমন্বয়ে ভবিষৎ পরিকল্পণা করা ।পরিসংখ্যানে মূল স্লোগান হলো সংখ্যাত্বক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষৎ এর অনিশ্চিত কোন বিষয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সিন্ধান্ত গ্রহণ বা পরিকল্পনা প্রনয়ণ করা ।

ব্যবসা বাণিজ্য ,সামাজিক অর্থনৈতি সহ প্রায় সকল ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যবহার কর হয় ।

এক কথায় কোন কিছু বর্তমানে কিভাবে কাজ করছে তা বিশ্লেষণ করা এবং ভবিষ্যৎ এ কিভাবে ঘটতে পারে তার একটি প্যাটার্ন বের করার প্রক্রিয়ায় পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয় ।

 

 

 পরিসংখ্যানের উপাত্তঃ

তথ্য সমূহকে যখন সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে ,পরিসংখ্যানে উপাত্ত বলে । উপাত্ত সাধারণত দুই ভাগে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে ।

প্রথমত ,সরাসরি ভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাকে প্রাথমিক উৎস বলা হয়।

দ্বিতীয়ত,অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত উপাত্ত থেকে ।যা মাধ্যমিক উপাত্ত হিসাবে অভিহিত করা হয় ।

 

সংগ্রহের উপর ভিত্তিতে উপাত্ত কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় ।

এক – অবিন্যস্ত উপাত্ত

দুই – বিন্যস্ত উপাত্ত।

 

অবিন্যস্ত উপাত্তঃ এলোমেলো ভাবে সংগৃহীত উপাত্তকে  অবিন্যস্ত উপাত্ত বলে । যেমনঃ৭৭৩,২,৩২৫,৬,৪,৩৪৬। এখানে বড় বা ছোট এর কোন ক্রম নেই ।

বিন্যস্ত উপাত্তঃ যখন সুনির্দিষ্ট কোন নিয়ম অনুসরণ করে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়ে থাকে ,তখন তাকে বিন্যস্ত উপাত্ত বলে ।যেমনঃ ১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮, এখানে উপাত্তগুলো ছোট থেকে বড় এর দিকে ক্রম অনুসারে সাজানো ।

উপাত্তের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে উপাত্তকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায় ……।

১। গুণবাচক((Qualitative) উপাত্ত

২। পরিমাণবাচক (Quantitative) উপাত্ত।

গুনবাচক (Qualitative) উপাত্তঃ

যখন কোন বিষয় বা বস্তুর কোন বৈশিষ্ট্য আছে বা নেই এমন ভিত্তিতে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় ,তখন তাকে গুনবাচক (Qualitative) উপাত্ত বলে।

যেমনঃ জামালের কাছে ইংরেজী বই আছে কি নেই ? এর উওর হ্যাঁ বা না হতে পারে এই জাতীয় উপাত্ত  কে গুনবাচক (Qualitative) উপাত্ত বলে।

 পরিমাণবাচক (Quantitative) উপাত্তঃ অপর দিকে কোন ব্যক্তি ,বিষয়,বা বস্তুর বৈশিষ্ট্য পরিমাণগত ভাবে পরিমাপ করা হয় তখন তাকে  পরিমাণবাচক (Quantitative) উপাত্ত বলে ।

যেমনঃ একজন মানুষের আয় কত?বয়স কত? এর উত্তর আসবে সংখ্যাত্বক যা পরিমাণগত উপাত্ত।

আমার বয়স ২৩ ।এটা একটা  পরিমাণবাচক (Quantitative) উপাত্ত।

 

চলকঃ 

চলক নাম কমবেশি সবার পরিচিত একটি শব্দ। চলক শব্দটি মাথায় আসলে যা চোখের সামনে ভাসে তা হল x. মনে করি ,বাবা বয়স x বছর । হাহাহা…………………………।

এবার সংগা দেওয়া যাক ,যে জিনিসের  অনেকগুলো পসিবল মান থাকা সম্ভব তাকে চলক বা ভ্যারিএবল বলা হয়ে থাকে।

যেমনঃ বয়স ,আয় ,উৎপাদন ইত্যাদি এগুলো সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় ।যেমন আমার আয় মে মাসে ১২০০০ ছিল জুন মাসে ১৩০০০ হল ।যা পরিবর্তনশীল এবং একাধিক মান থাকার সম্ভবনা থাকে ।

ডেটার চলমান বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে চলক কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় ।

১।বিচ্ছিন্ন চলক (Discrcte Variable)।

2.অবিচ্ছিন্ন চলক  (Continuous Variable)।

বিচ্ছিন্ন চলক (Discrcte Variable)ঃ

সংগৃহীত চলকের মান যখন পূর্ন সংখ্যায় প্রকাশ যোগ্যতা থাকে ,তখন তাকে বিচ্ছিন্ন চলক (Discrcte Variable) বলে। যেমন সন্তান,দালান কোটা ,মোবাইলের সংখ্যা ইত্যাদি ।এগুলো্র মান  শুধু পূর্ণ সংখ্যায় প্রকাশ সম্ভব ।কেই বলতে পারবে না যে তার ১.৫ টা সন্তান আছে ।

 

অবিচ্ছিন্ন চলক  (Continuous Variable)ঃ

কোন চলকের সংগৃহীত মান যদি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে ,তবে উক্ত চলকের মানকে অবিচ্ছিন্ন চলক  (Continuous Variable)বলে ।

যেমন ২৬-৩২ হাজার টাকা উপার্জনকারী শ্রমিকের সংখ্যা ৫ জন । ৫- ৬ ফুট উচ্চতার ছেলের সংখ্যা চার জন ইত্যাদি ।

 

Author

Write A Comment