সোশ্যাল-মিডিয়া-মার্কেটিং ।।অনলাইন ব্যবসা

সোশ্যাল-মিডিয়া-মার্কেটিং- গতকাল কথা বলেছিলাম, সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং কেন করবেন?

আজ বলার চেষ্টা করব কিভাবে করবেন ।তবে যারা অল্প তেলে কড়কড়া মাছ ভাজা খাইতে চান এই পোস্ট তাদের জন্য নয় ।

আসলে ডিজিটালাইজশনের এই যুগে তথ্য আজ উম্মুক্ত।আপনি একটু ঘাটাঘাটি করে বের করে ফেলতে পারেন,আপনার ব্যবসার উন্নয়নে কি করা প্রয়োজন।এভাবে, হয়তো  অনেকে অনেক কিছু  জানেন এবং করছেনও।কিন্ত পার্থক্যটা তৈরি হয় কিভাবে করছেন সেটার মাধ্যমে।আজ আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বলার চেষ্টা করছি ,কি ভাবে স্টেপ বাই স্টেপ একটি কার্যকরী সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করবেন।

 

আপনার ব্রান্ড এবং কাস্টমার বিশ্লেষণ করুনঃ 

এই কথাটা শুনতে শুনতে হয়ত আপনারা ক্লান্ত হয়ে গেছেন ,প্রায় সব ধরনের মার্কেটিং প্লানের প্রথম এবং সর্ব প্রথম কাজই হলো,নিজের ব্যবসা  বা কাস্টমার সম্পর্কে খুব ভাল্ভাবে জানা।আপনার নির্বাচিত পণ্যটি বা সেবাসমূহ আপনি কাদের জন্য বাজারজাতকরণ করছেন ।তারা কি করে ,কোথায় থাকেন,বয়স কেমন ,পেশা কি ,অনলাইনে কখন থাকে ,কোন ধরনের পোস্ট এ এ্যংগেজট হয়।

এই সব ডাটা অবশ্যই আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে ।বিজনেসের ভাষায় এটাকে বায়ার্স পারসোনা বলে।আপনি দক্ষ ব্যবসায়ী হলে এই সব ইন্টারেস্ট বা ডেমোগ্রাফিক ভেংগে আরো ক্ষুদ্রতর একক নিয়ে বিশ্লেষণ করবেন,একটি ফাকিবাজি বুদ্ধিও প্রয়োগ করতে পারেন ,তা হলো , আপনার সম্ভাব্য প্রতিযোগিদের সব তথ্য অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষন ও বিশ্লেষণ করুণ।এখানে কাস্টমারদের সম্পর্কে তো আইডিয়া পাবেনই ,বোনাস হিসাবে আপনার পণ্যের একটা ভ্যালু এড করার আইডিয়া ও পেয়ে যাতে পারেন ।

কি বুঝলেন না ?? আচ্ছা ধরুন এখানে যে ডেমোগ্রাফিক গুলো নিয়ে কথা বললাম এরা সবাই কি আপনার ক্রেতা? অবশ্যই না ।এটা একটা কমন গ্রুফ এখানে সবার পছন্দ,চিন্তা চেতনা ভিন্ন তাই এরা ভাগ হয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্রান্ডের ভোক্তা।

খেয়াল করে দেখবেন,প্রত্যেকটা পণ্য বা ব্রান্ডের আলাদা আলাদা ইউনিক সেলিং পয়েন্ট আছে ,মানে যেটা দ্বারা সবাইকে তারা আকৃষ্ট করে ।আপনি সবগুলোর  সমন্বয়ে একটি অথবা সবার থেকে আলাদা বা উন্নতর একটি USP তৈরি করতে পারেন ।যেটি আপনার মার্কেটিং ভয়েস হিসাবে ব্যবহার হবে ।এটা ঠিকঠাক না করতে পারলে ,স্ট্রাট্রেজি বা কনটেন্ট  বা ডিজাইন যতই উন্নত বা আর্কষণীয় করেন,সফল হওয়ার সম্ভাবণা খুব কম ।

লক্ষ্য নির্ধারণ করুণঃ

আপনার কাস্টমার এবং পণ্য সম্পর্কে জানা হয়ে গেলে ,এখন আপনার কাজ সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ ।মানে এই মিডিয়া ব্যবহার করে আপনি কি অর্জন করতে চান ।ওয়েবসাইট ট্রাফিক হলে ,একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমান ,তেমনি ইমেইল ,লিড বা ফলোয়ার পেতে হলে চাইলে ,অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সময়ের সীমানা তৈরি করতে হবে ।এটা অবশ্য ধাপে ধাপে বিশ্লেষনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে ।

কিন্ত প্রাথমিক গোল যেমন ,কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক তৈরি বা সচেতনতা তৈরি ,কনভার্সন বা ব্রান্ড লয়ালিটি এগুলোর জন্য অবশ্যই গোছানো পরিকল্পণা তৈরি করতে হবে ।কারণ আপনি কে বা কি সেটা কাস্টমার জানে না ।আপনাকে কনটেন্ট এর মাধ্যমেই তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে ।আর একটি সফল কনটেন্টের জন্য অবশ্যই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও সু স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন ।

 

মিডিয়া ও রিসোর্স নির্বাচন :

পণ্যে বা ব্রান্ডের ধরণ অনুযায়ী  ক্যাম্পেইন বা মার্কেটিং প্লান সেই অনু্যায়ী মিডিয়া নির্বাচন হয় ।সাধারণত আমাদের দেশে ফেসবুক ,ইনস্ট্রাগ্রাম ও লিংকডই্নের প্রচলন বেশি ।ফেসবুক ও ইনস্ট্রাগ্রাম যেখানে সবথেকে বেশি আর লিংকডইন  মূলত B2B বিজনেসের জন্য, প্রফেশনাল বা পারসোনাল ব্রান্ডিংয়ের জন্য লিংকডইনই সবার সেরা ।

যাইহোক আমি ধরে নিচ্ছি আপনি ফেসবুকই ব্যবহার করবেন হয়ত,অন্যান্য চ্যানেলগুলোও প্রায় সব একই শুধুমাত্র কনটেন্ট ও ব্যবহার উপযোগিতার দিক দিয়ে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে ।তবে সব গুলো একসাথে না করে সিংগেল মিডিয়ায় ফোকাস থাকলে ভাল ফল পাওয়া যায় ।

চ্যানেল নির্বাচনের কাজটা আরো চ্যালেঞ্জিং।আপনার পুরো প্লানের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে আপনার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে ,লক্ষের সাথে মিল রেখে রেগুলার বেসিস কনটেন্ট তৈরি  ও পাবলিশ করার জন্য যেমন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে ,ঠিক তেমনভাবে গুরুত্ব দিতে হবে সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য ।এগুলো ঠিকঠাক করতে না পারলে আপনার ব্রান্ড রেপুটেশন নষ্ট হবে।বিষয়গুলো ছোট মনে করে অনেকে এড়িয়ে যায় ,কিন্ত একটি কার্যকরী মার্কেটিংয়ের জন্য এর গুরুত্ব অনেক বেশি ।তাই অনলাইন কনভার্সসেশনে অংশ নেওয়ার মত দক্ষ কেউ আপনার টিমে  না থাকলে দ্রুত প্রশিক্ষন দিন ।মার্কেটিং প্লান শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় প্রত্যেকটা রিসোর্স প্রস্তুত করতে হবে ।

 

চ্যানেল অপটিমাইজেশন ও এ্যালগরিদম সম্পর্কে  ধারণা :

অফলাইনে কাজ শেষ এখন অনলাইনে আসতে হবে ।প্রথমেই প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি আপনারা যখন বিভিন্ন পেজ ভিজিট করেন ,তখন একটা স্ট্যাটিক বা অদ্ভত একঘেয়ে পেজ কে ফলো করেন নাকি একটা পেজ যেটা দেখতে কনভারসেসনাল টাইপের, যেখানে একবার ঢুকলেই তাদের সব পণ্য ,সেবা সম্পর্কে ক্লিয়ার আইডিয়া পাওয়া যা্‌ তাদের টা?নিশ্চয় দ্বিতীয়টা ।সুতরাং  ফেকবুক প্রদত্ত সবগুলো সেকশন যথাযথ তথ্য দিয়ে পূরণ করুন ।আপনি প্রফাইলে কভার ফটো কাস্টমাইজ পিকচার সাথে আপনার প্রতিষ্ঠানের কী পয়েন্ট হাইলাইট ক্রুন ।এ্যাবাউট সেকশনসহ সব গুলো সেকশনে যথাযথ ছবি ও বর্ণ্না দিন ।কোম্পানির ইমেইল ,ফোন নাম্বার ও ওয়েব সাইট লিংক ব্যবহার করুন ।ফেসবুক ম্যাপে আপনার প্রতিষ্ঠানের লোকেশন স্পষ্ট করুন  ।শপ ,বুকিংসহ আরো কতগুলো আপশন আছে প্রয়োজন অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবহার করবেন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের সবগুলো সেবা বা সার্ভিস গুলো অবশ্যই পেজের প্রথমে লিস্টিং করে রাখবেন ।ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন অনুযায়ী কলটু অ্যাকশন বাটন ব্যবহার করুন ।স্টোরি সেকশনে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি ও কোম্পানির ইতিহাস ও সফলতা ও লক্ষ্যের বর্ণ্না দিন।আপনার পেজের প্রথমেই সার্ভিস বা পণ্যের একটা এক্সপ্লেইনার ভিডিও পিন করে রাখতে পারেন ।যতসম্ভব হ্যাপি কাস্টমারদের কাছ থেকে রিভিউয়ের জন্য অনুরোধ করুন ।এছাড়াও ম্যাসেঞ্জার বট ব্যবহার না করেই আপনার ম্যাসেঞ্জারে যে স্বল্প অটোমেটিক সুবিধা রয়েছে সেটা ব্যবহার করার চেষ্ঠা করুন ।পাশাপাশি আলাদা আলাদা ক্যাম্পেইনের জন্য মেসেঞ্জার গ্রুফ করতে পারেন ।যেখানে সবার একসাথে মেসেজ যাবে না,শুধু ক্যাম্পেইন রেস্পন্সের জন্য । 

মূলকথা হল আপনার পেজটা কে এমন ভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে যেন কেউ কোন সমস্যা নিয়ে আসলে সমাধান নিয়ে ফিরে যেতে পারে বা সমাধানের আশ্বাস পায় ।তাহলে তারা আবার ফিরে আসবে ।

 

অনেকগুলো হলো এখন এ্যালগরিদম মানে ফেসবুক কিভাবে আপনার পেজ বা পোস্ট মানুষের সামনে হাজির করে এটা নিয়ে দু চার কথা বলা করা যায় কিনা দেখি।শুনেছি কমবেশি দশ হাজার ফ্যাক্ট্র আছে যা দ্বারা ফেসবুকের অর্গানিক রিচ নিয়ন্ত্রিত হয় ।এত ক্ষণ যা বলালাম তা এই দশ হাজার এর মধ্যে ,যদিও ফেসবুকের মনোযোগ পেইড এ্যাডের দিকেই বেশি ।তারপরেও edge rank  নামের একটা ্টার্ম আছে ,চলুন সেটা সম্পর্কে জেনে নেই ।

 

Edge rank মূলত চারটি জিনিসের সমন্বয়ে গঠিত ।

Inventory  

প্রথমটি হলো ইনভেনটরি, এটা হচ্ছে  একটা সময়ে মানে যেই মুহূর্তে আপনি পোস্ট করেন ঠিক সেই সময়ে ফেকবুকের কাছে কতগুলো পোস্ট জমা পড়ল ,পোস্ট যতবেশি ডিস্ট্রিবিউশন প্রসেস তত স্লো ,এজন্য দেখবেন বিশেষ কোন দিনে আমাদের ব্যক্তিগত পোষ্টের ও রিচ কমে যায় ।কারণ তখন ফেকবুকের কাছে অনেক বেশি পোষ্ট জমা পড়ে যায় ।

Signal :

এটা দ্বারা ফেসবুক বোঝার চেষ্টা করে কি ধরনের পোস্ট,ডেমোগ্রাফিক কি ।এজন্য সাধারণত 

কিওয়ার্ড,হ্যাশ ট্যাগ ও ভাইরাল বা ট্রেন্ডি টপিকগুলো বেশি এ্যংগেজমেন্ট পায় ।

 

Prediction:

আপনার পূর্ববর্তী দাদারা কেমন ছিল ,থুক্কু আপনার আগের পোস্ট কেমন ছিল ,ডিজাইনটা কেমন ,কপি পোস্ট কিনা সেটার উপর পরিক্ষা চলে এখানে । 

 

Score:

উপরের তিনটি প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী একটি স্কোর আপনাকে দেওয়া হয় ।যেই পয়েন্ট বা স্কোর নিয়ে আপনার পোস্ট, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি পরিক্ষায় অংশ নেয় ।বুঝলেন কি না ?

বোনাস : সব সময় আপনার পোস্টের শিরোনাম এমন দিবেন যেন আপনি তাদের কে প্রশ্ন করছেন আথবা অডিয়েন্স কে জড়িয়ে কিছু একটা বলবেন ,তাতে এ্যংগেজমেন্ট বাড়বে আর এ্যংগেজমেন্ট বাড়লেই আপনার GPA বাড়বে ,আর তাহলেই মেরিট লিস্টে সুযোগ পাবেন ।

 

কনটেন্টের কৌশল :

কনটেন্ট ইজ কিং একথাটা হয়ত জীবনে বহুবার শুনেছেন ।তাই আমি নতুন করে বলতে চাই না ।তবে এ কথা সত্য এই এতক্ষন এত কিছু যে বললাম তার সব কিছুই জলে যাবে যদি ,যদি কনটেন্ট ঠিকঠাক না হয় ।মনে করুন আপনি রান্না করার সময় যদি তরকারিতে লবণ দিতে ভূলে যান ,তাহলে স্বাদ যেমন বেরসিক হবে ,ঠিক তেমনি কনটেন্ট কোয়ালিটি বা রিলেভেন্ট না হলে আপনার ব্রান্ডের ইমেজ বেরসিক মনে হবে ।

সোশ্যাল মিডিয়া আমরা সাধারণত গ্রাফিক্স ,ভিডিও এবং টেক্সস্ট কনটেন্ট ব্যবহার করে থাকি ।প্রত্যেক টা কনটেন্ট প্রকাশ করার আগে,তা ক্যাম্পেইনের সাথে সামঞ্জস্য কিনা এবংতার ম্যাসেজ সুস্পষ্ট কিনা অবশ্যই দেখে নিতে হবে ।আর খেয়াল রাখতে হবে আমরা কেবল বিশ ভাগ প্রমোশনাল কনটেন্ট আমাদের পেজে প্রকাশ করব বাকি চল্লিশ ভাগ শিক্ষামূলক ,বিনোদন ,মানুষের আবেগ বা জাতীয় ইস্যুসহ অন্যান্য তথ্য সমূহ পোস্ট দেওয়া উচিত  ।এই সেকশন টি যেহেতু খুবই গুরুত্বপূর্ন পুরো মার্কেটিং প্লানের মধ্যে তাই সফল ভাবে সম্পূর্ন করার জন্য এটাকে ছোট ছোট ভাবে ভাগ করে নেওয়া শ্রেয় মনে করি আমি ।মূলত তিন ভাগে ভাগ করলে কাজগুলো খুব বিচক্ষণ ভাবে সম্পূর্ণ করা সম্ভব।

 

Content Map:

এটা হচ্ছে কি কি বিষয়ে পোস্ট আপনার পেজে শেয়ার করবেন তার একটা চেকলিষ্ট আগে থেকে তৈরি করে রাখা এটা আবার দুই রকমের হতে পারে।

 

Internal Content :

1.blog post 

2.case studies 

3.marketing matarials

4.industry knowledge

5.buyer important day  

6.social proof

 

External content :

Influencer 

Good writers article share 

(related writer )

Any trending issue 

এ ছাড়াও বিভিন্ন সার্ভে বা কুইজ অথবা ইভেন্ট ও ক্যাম্পেইন প্রয়োজন অনুযায়ী পোস্ট দিতে পারেন ।

এডিটোরিয়াল ক্যালেন্ডার:

এখানে মুলত কনটেন্ট ম্যাপ কে আরো নির্দিষ্ট করে কোন টপিক কাকে দিয়ে লেখাবেন ,কখন লেখাবেন সেটার সময় সূচি নির্ধারন ও তদারকি করা হয়।

তিন নম্বর, শেষ ধাপ হচ্ছে কনটেন্ট ক্যালেন্ডার ,এই সেকশনে আমার আগে অবশ্যই আপনার কনটেন্ট রেডি থাকতে হবে ।এখানে এসে শুধু কোন দিন কোন পোস্ট কোন চ্যানেলে  প্রকাশিত হবে তার একটি সময় সূচি তৈরি করে রাখা হয় ।সাধারণত অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় আপনি প্রতিদিন কনটেন্টের উপর গুরুত্ব দিতে পারবেন না ।তাই প্রতি মাসের যে কোন একদিন আপনার ইডিটরের কাছ থেকে সব পোস্ট সংগ্রহ করে ক্যালেন্ডারে সেট করে রাখতে পারেন ।আপনি এক্সেল শিটে নিজের মত করে তৈরি করে নিতে পারনে  বা অনেক প্লাটফর্ম আছে যাদের থেকে আপনি রেডিমেড ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন ।যেমন buffer and hootsui এই এ্যাপ দুইটি দ্বারা পোস্ট সিডিউলড ও করা যায় ।

 

ফানেল তৈরি ও পেইড প্রমোশনঃ

ফানেল শব্দটা শুনলেই যে কথা টা হল “ফোতল”আমাদের গ্রামের ভাষা এটি ।এই জিনিস টি দ্বারা তরল জাতীয় যে কোন কিছু একপাত্র থেকে তাদের কে অন্য পাত্রে স্থানান্তর করা হয় ।জিনিস টার উপরের দিকে অনেক টা প্রসারিত আর নিচের দিকটা খুবই সরু ।ইচ্ছা করলে কোন কাপড় জাতীয় কিছু দিয়ে ময়লা আবর্জনা ফিল্টার বা ছেকে নেওয়া যায় ।আনলাইন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে এই জিনিসটা বহুল প্রচলিত ।আপনার পেজে যারা এ্যাংগেজস্ট হয় তারা সবাই আপনার পণ্য কিনবেনা ।বা সবাই হয়ত সব জিনিস কিনবেনা ।এক্ষেত্রে আপ্নারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন ।আপনার কাংখিত ক্রেতা খুজে বের করার জন্য ।

এই প্রক্রিয়া টা সম্পূর্ন করতে আগে বর্ণিত সব গুলো পদ্ধতি ঠিকঠাক ভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং অন্তত একটি সঠিক কনটেন্ট প্লান রেডি করে অন্তত দুই মাস তা নিয়মিত করতে হবে  ।প্রাথমিক ভাবে অর্গানিক কিছু ফলোয়ার তৈরি হলে ,তার প্র পেইড প্রমোশানের সাহায্যে ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফানেল তৈরি করতে পারবেন ।AIDA ফর্মূলা এখানে খুব কার্যকরি ।AIDA এর পূর্ণরূপ 

A= awareness(সচেতনতা বা পরিচিত )

I=interest(আগ্রহ)

D=desire( ক্রয়ের ইচ্ছা পোষণ)

A= action(ক্রয় সম্পাদান )

একটা উদাহরণ দিলে মনে হয় আরো ক্লিয়ার হবে ,যেমন ধরুন শীতকালে আপনি চামড়ার জ্যাকেট বিক্রি করবেন।এক্ষেত্রে সচেতনতা  স্তরে আপণি আপনার পণ্যের সব গুনাগুণ পরিচিত কালার ,আনুমানিক মূল্য কত ,ডেলিভারি প্রসেস সহ অন্যান্য প্রাথমিক ইনফরমেশন দিয়ে একটা এ্যাড তৈরি করুন  ।

এখন আপনি আর আগন্তক নয় ।আপনার পণ্য সম্পর্কে মানুষজন মোটামুটি জেনে গেছে ।এখন দিত্বীয় স্টেজে আপনাকে একটু কোশলী বিজ্ঞাপন দিতে হবে ।ঐ সমস্ত লোকজন কেই টার্গেট করে যারা ইতিমধ্যে প্রথমটা দেখে ফেলেছে।আপনি জানেন আমাদের বেশির ভাগ মানুষ কাপড়ের জ্যাকেট ব্যবহার করে ,সুতরাং তাদের ইন্টারেস্ট জাগানোর জন্য বিজ্ঞাপনে এমন সব ভাষা বা ইনফরমেশন ব্যবহার করুন যা দ্বারা নিজেরাই দুইটি জিনেসের মধ্যে পাথর্ক্য তৈরি করতে পারে ।যেমন ,outlook,comfortable ,stylish,western look এই জাতীয় আর্কষণীয় শব্দ ,যেটা চলিত পোষাকের সাথে পার্থক্য তোইরি করে ।তৃতীয় ধাপে এই একই অডিয়েন্স কে আরো তথ্য সমৃদ্ধ কনটেন্ট দিতে হবে ।যেমন চামড়া গুলো কোথায় থেকে নেওয়া হয়েছে ,কালার কয়টা আছে ,সম্ভব হলে প্রডাকশন ভিডিও দিয়ে আপনার ল্যান্ডিং পেজে নিয়ে আসতে পারেন ।এক্ষেত্রে হয়ত আপনি কিছু লিড ও আপনি পাবেন ।আর তা না হলে ফেসবুকের পিক্সেলের মাধ্যমে তাদের কে পুনরায় টার্গেট করতে পারেন ।

চতুর্থ ও সর্বশেষ ধাপে তাদের এ্যাকশন মানে পারচেজ করার জন্য পুনরায় পুষ করতে সেটা বিভিন্ন অফার অফার ডিসকাউন্ট buy on get one free এই জাতীয় অফার ,আপনার ব্যবসার ধরন অনু্যারী ডিজাইন করবেন ,ব্যাস হয়ে গেল মোটামুটি একটা প্রাথমিক ফানেল।এরপরো আফটার পারচেজ লয়ালিটি তৈরি করার জন্য একটা ধাপ আছে ।সেটা অন্য দিন বলব ।

 

 

বিঃদ্রঃ ক্যাম্পেইনের ধরণ ও ছোট বড় বিজনেসের ধরণ অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে ।কারণ প্রতিটা  বিজনেস ইউনিক এবং তার কাস্টমার ভ্যালু ও ভিন্ন ।সুতরাং  ক্যাম্পেইন গোল আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক ।

যাইহোক উপরের বর্ণিত ফানেল প্রক্রিয়াটি পেইড প্রমোশন ছাড়া সম্ভব না ।প্রতিটা স্টেজে বিজ্ঞাপণ তৈরির সময় অবশ্যই দুই বা তিন সেট এ্যাড তৈরি করে দেখতে হবে কোন ধরনের এ্যাড আপনার জন্য বেশি কার্যকরী ।ভিডিও না ইমেজ টেক্সট না এনিমেশন?কোন ধরনের এ্যাড এ বেশি এ্যংগেজমেন্ট ,টাইটেল কেমন হবে ,কল টু এ্যাড নাকি প্রশ্নবোধক,এগুলো স্পিট টেস্ট নামক অপশন  দিয়ে করতে পারবেন ।প্রথম প্রথম হয়ত এজন্য খরচ একটু বেশি হতে পারে ।তবে লং টার্ম বিজনেসে পরবর্তীতে খরচ কমবে এবং কনভার্সন ও বাড়বে ।কারন একবার কাস্টমার সেট করলে সেটা বারবার ব্যবহার করতে ,প্রয়োজনে কাস্টমার বাড়াতে চাইলে অবশ্যই এই অডিয়েন্সের লুক -এলাইক আরেকটা বিজ্ঞাপণ চালু করলেই , সেম টাইপের আরো ক্রেতা আপনার পেজে এ্যংগেজ হবে ।তবে মনে রাখবেন প্রত্যেকটা সাকসেস ফুল ক্যাম্পেইন মিনিমাম ছয় দিন চালাবেন ।তাহলে টার্গেটেড সবাই দেখতে পাবে ।কারন ভিন্ন ভিন্ন দিনে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ব্যস্ত থাকে ।

আমি আবার বলছি ,এভাবে করতে হয়ত আপনার খরচ একটু বেশি হবে ,তবে একবার আপনার কাংখিত অডিয়েন্স পেয়ে গেলে ,আপনার বিক্রি বা আকাংখিত রেজাল্ট একের থেকে দুই ,দুই -দুই-চার ।চার-থেকে আট এভাবে বাড়তে থাকবে ।এক্ষেত্রে অবশ্য বিজনেস ম্যানেজারে অডিয়েন্স ইনসাইট নামে একটা আপশন আছে,যেটি ঠিকঠাক ব্যবহার করতে পারলে আপনি কম পরিক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েই আপনার টার্গেটেড গ্রুফের কাছে পৌছাতে পারবেন ।অডিয়েন্স ইনসাইটের মাধ্যমে ইন্টারেস্ট বেজড ,কাস্টমার টার্গেট করা সহজ হয়ে যায় ,এমনকি আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার ফেসবুকের আর কোন কোন পেজ পছন্দ করে সেটাও বুঝতে পারবেন ।এরক আর ও কিছু মেট্রিক আছে যা দ্বারা কম পরিমানে একটি সফল এ্যাড তৈরি করতে পারবেন ।

 

এছাড়া ও চলমান এ্যাড এ কাস্টমস রিপোর্ট এনালাইসিস খুবই জরুরি ,যেমন ধরুন আপনি যে অ্যাাকশনের জন্য এ্যাড দিয়েছেন সেটা দিতে ফেসবুক দশ টাকা কাটছে সাধারণত একশত প্রাথমিক একশনে দুই টা সেল বা কনভার্সন বা সর্বশেষ ফলাফল যেটা দিয়ে প্রফিট জেনারেট হয় ,সেটা ঘটে ।সুতরাং এখন হিসেব ১০ *১০০=১০০০ টাকা খরচ করে আপনি দুইটি সেল পাচ্ছেন ,এটা যদি যথেষ্ট  লাভজনক না হয়,তাহলে আপনার সি টি আর এর খরচ কমাতে হবে ।সেজন্য হয় গ্রাফিক্স বা কল্টু অ্যাাকশন চেঞ্জ বা ভিন্ন গ্রুফকে টার্গেট করতে হতে পারে ।পেইড এ্যাডের মাধ্যমে কাংখিত রেজাল্ট পেতে হলে মূলত পরিক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনাকেই একটা ইউনিক টার্গেট গ্রুফ খুজে বের করতে হবে ।

 

শেষকথা :

যারা সব সময় বলেন এবং এই লেখা পড়ার পর ও  অনেকে বলবেন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজনেস নেই ,এ্যাডে তেমন ফলাফল  আসে নি ।আপনারা বলতেই থাকুন ।আর যারা এখনো হতাশ নন ,তারা যদি ধৈয্য নিয়ে সবগুলো স্টেপ করতে পারেন তাহলে অবশ্যই ফলাফল পাবেন ।একথা ঠিক অর্গানিক রিচ খুবই কম ,তবে পেইড এ্যাডে সঠিক ফলাফল পেতে হলে অবশ্যই নিয়মিত হতে হবে পেজে ,এটাকে ক্ষেত্র প্রস্তত হিসেবে ধরুন ।যার জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত দক্ষ একটি টিম ,যারা এখানে যা বলা আছে সেই কাজগুলোই প্রতিদিন করবে খুব সহজে ও সাবলিল ভাবে ।

 

বকসিস :

যারা কষ্ট করে শেষ পর্যন্ত এসেছেন তাদের জন্য:-


১।প্রতিযোগি যে সময় পোস্ট করে আপনি সে সময় করবেন না।

২।পেইড এ্যাডের গ্রাফিক্স এ ২০% বেশি টেক্সট দিবেন না ।

৩।ভিডিও এ্যাড একদিন দেওয়ার পর স্টপ করে লুক এলাইক সেট করে দিন ।

৪।পেজে কমেন্ট আসলে সব সময় ফলো আপ কমেন্ট করুন ,আপনি যত পারেন সংযোগ বাড়াবেন ,কমেন্ট আপনি শেষ করবেন না ।

৫।স্টোরি টেলিং কনটেন্ট তৈরি করেন ।

৬।ছবির সিরিজ পোস্ট তৈরি করুন ।

৭।মাঝে মাঝে ইন্ডাস্টি রিলেটেড পোস্ট দিতে পারেন ।

 

Author

Write A Comment