মার্কেটিং -প্রমোশন 

Promotions  এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো প্রচার বা উৎসাহদান করা ।প্রচার একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ ।কিন্ত প্রচার কি ?প্রচার কেন করা হয় ?প্রচারের ক্ষেত্রে  কোন কোন কৌশল-গুলো অবলম্বন করা হয় তা হয়ত অনেকের অজানা ।তাহলে জানা যাক প্রচার কি ?

 

 

প্রমোশন হলো এক প্রকার মার্কেটিং যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বিক্রেতা ক্রেতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে ।যোগাযোগের এ ক্ষেত্রে বিক্রেতা ক্রেতা কে পণ্য ,সেবা বা ব্রান্ড সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করে ,যার মাধ্যমে ক্রেতা নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবা ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে ।

বিষয়টা তাহলে পরিষ্কার করা যায়,ধরুন আপনার কাছে একটি পণ্য আছে ,যা ক্রেতার একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম ।এখন আপনাকে আপনার টার্গেট কাস্টমারের কাছে আপনার পণ্য সম্পর্কিত তথ্য পৌছাতে হবে ।আপনি ক্রেতার কাছে এ তথ্য পৌছানোর জন্য যত  ভাবে যোগাযোগ করবেন ,তার সমষ্টিকে প্রমোশাণ বলে ।

 

 

প্রমোশনের উদ্দেশ্যঃ

  • পণ্য,সেবা বা ব্রান্ড সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি।
  • আগ্রহ তৈরি করা ।
  • বিক্রয় বৃদ্ধি ।
  • ব্রান্ড আনুগত্য ইত্যাদি ……………।

 

উদাহরণঃ

মার্কেটিং-প্রমোশন

আমরা যদি উপরের বিজ্ঞাপণ টি বিশ্লেষণ করা যাক ,বাটা কেন এই প্রমোশণ টা রান করল ?

বাটা এই প্রমোশণ এর মাধ্যমে ক্রেতাদের জানাচ্ছে যে ,তাদের পণ্যের মূল্যের ছাড় চলছে ।এই মেসেজ এর আড়ালে বাটা কোম্পানির উদ্দেশ্য কি ?আমরা যত ভাল ভাবে বিভিন্ন প্রমোশণ বিশ্লেষণ করতে পারব  ,তত সুন্দর ভাবে আমরা তা আমাদের বিজনেসে প্রয়োগ করতে পারব ।এই প্রমোশণ টার নাম হলো সেলস প্রমোশণ যার উদ্দ্যেশ্য শর্ট টাইমে সেল বাড়ানো ।তাহলে আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারলাম যে ,

বাটার এই প্রমোশণ রান করার উদ্দ্যেশ্য হল শর্ট টাইমে সেল বাড়ানো।সেই সাথে তাদের ওয়্যার হাউসে  থাকা পুরাতন পণ্য গুলো খালি হবে ।আপনার ওয়্যার হাউস এ পুরাতন পণ্য থাকলে এ টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন ।

 

আমরা এখন প্রমোশণ মিক্স নিয়ে কথা বলব ।যার মধ্যে ছয়টা উপাদান বিদ্যমান ।

উপাদানগুলোর মাধ্যমে মার্কেটিং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করা হয় ।তাহলে জানা যাক উপাদান ছয়টি কি 

  • অ্যাডভারটাইজিং
  • সেলস প্রমোশণ
  • ডিরেক্ট মার্কেটিং
  • পাবলিক রিলেশান
  • পারসোনাল সেলিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং

 

এক এক করে আমরা উদাহরণ এবং বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে আমরা জ্ঞান অর্জন করব ।

 

অ্যাাডভারটাইজিংঃ

অ্যাাডভারটাইজিং এর সাথে পরিচিত নয় এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুষ্কর ।আমরা বাসার টেলিভিশণ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট সব খানে অ্যাাডভারটাইজিং দেখতে পাই ।অ্যাডভারটাইজিং মূলত নন পারসোনাল বার্তা  ব্যবস্থা যার মাধ্যমে কোন পণ্য,সেবা বা আইডিয়া প্রচার বা বিক্রি করা হয় ।

 

মার্কেটিং-প্রমোশন

 

আইফোন এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনাকে আগ্রীম ভাবে ভাবতে বাধ্য করছে ।এখন কথা হচ্ছে আই ফোন কেন তাদের এই বিজ্ঞাপণটাতে পণ্যের গুণাগুণ না গেয়ে , say hello to the future কপিটা ব্যবহার করছে ।আইফোন প্রি অডারের ক্ষেত্রে এ রকম বিজ্ঞাপণ ব্যবহার করে থাকে ।শুধু আইফোনের এ্যাড বুঝলে হবে না একই সাথে আপনার পণ্যের ক্ষেত্রে কিভাবে ব্যবহার করা যায় খুজে বের করতে হবে ।

স্বচ্ছ ধারনা জন্য একটি একটি পরিচিত অ্যাাডভারটাইজিং ব্যবহার করা যাক ,”স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার”গ্রামীণ ফোনের জনপ্রিয় একটি বিজ্ঞাপন ।বিজ্ঞাপনটি ঈদের বাড়ী ফেরার আবেগীয় ভাব এবং প্রিয়জনদের অপেক্ষা মূহুর্ত নিখুতভাবে চিত্রায়ন করেছে ,যা গ্রামীণফোনের  অনবদ্য সৃষ্টি।বিজ্ঞাপণ টি সে সময়ে মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছিল।যার ফলাফল ছিল লাখো মানুষের ব্রান্ডদের প্রতি অনুগত্য।

 

সেলস প্রমোশণঃ সেলস প্রমোশন এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতাদের ডিসকাউন্ট,বিভিন্ন কনটেস্ট,অফার  ইত্যাদির মাধ্যমে ক্রেতাদের ক্রয়ের জন্য প্ররোচিত করা হয় ।সেলস প্রমোশান স্বল্প মেয়াদের জন্য কাজ করে ।সাধারণত স্বল্প সময়ে অধিক বিক্রয়ের জন্য এই প্রমোশান টুল টি ব্যবহার করা হয় ।তাছাড়া ক্রেতাদের নিজের ব্রান্ডের দিকে নিয়ে আসার অন্যতম একটি উপায় ।মনে পড়ে কি ,একটি কিনলে একটি অফার আপনি আর আপনার বন্ধু মিলে গ্রহন করেছেন ।আমি কিন্ত প্রমোশানটি গ্রহণ করেছি।তাছাড়া সেলস প্রমোশন ট্রাটেজির অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে চার্ম প্রাইজিং।চার্ম প্রাইজিং হচ্ছে এমন একটি প্রাইজিং সিস্টেম যেখানে একটি  রাউন্ড সংখ্যার প্রাইজের পরিবর্তে একটি ওড সংখ্যা ব্যবহার করা হয় ।যার ফলে ক্রেতার মনে একটি প্রভাব পড়ে ।উদাহরণঃ একটি শার্টের মূল্য ৳২০০ না লিখে যদি আমরা ৳১৯৯ লিখি তাহলে ক্রেতার মাথা কাজ করে ৳১০০ টাকার ভিত্তিতে ।সে সংখ্যা টা কে ৳২০০ থেকে অনেক কম ভাবে ,আদতে তাকে ৳২০০ টাকাই পরিশোধ করতে হয় ।মোবাইল ফোন কোম্পানিতে এ রকম প্রাইজিং বেশি দেখা যায়।

মার্কেটিং-প্রমোশন

 

ডিরেক্ট মার্কেটিংঃ

এ প্রমোশণ এর মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয় ।এই মাধ্যমগুলোর উপাদানগুলো হলো সেল ফোন মেসেজ ,কল ,ইমেইল প্রভৃতি ।আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন টেলিকম ,রিয়েল এটেস্ট কোম্পানি গুলো ডিরেক্ট মার্কেটিং প্রমোশান ব্যবহার করে থাকে ।তাছাড়া আমাদের যদি রেগুলার কিছু কাস্টমার সাথে ,নতুন পণ্য আসলে আমরা এ সুবিধা কাজে লাগাতে পারি ।ডিরেক্ট মার্কেটিং এ ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার চাইতে তথ্য বেশি বিক্রয় করা হয় ।ডিরেক্ট মার্কেটং কেন ?,সু্যোগ ,ভয় ,নিরাপত্তা ,সময় ইত্যাদি জাতীয় তথ্য ক্রেতাকে বেশি জানানো হয় ।যার দরুন ক্রেতা সংগে সংগে পণ্য বা সেবা না কিনলেও পরে কেনার কথা ভাবে ।বীমা কোম্পানিগুলো ভবিষৎ নিরাপত্তা,সুযোগ,অথবা ভয়ের বিষয়ক তথ্য ক্রেতাকে প্রদান করে ।এ বিষয়টি ডিজিটালি করা সম্ভব বিভিন্ন রকম ইনফোগ্রাফিক চিত্র ,পরিসংখ্যান ,এবং বিভিন্ন প্রিডিকশান মূলক কেস স্টাডি প্রমোশন করে ।যেমন বর্তমানে ৳৫০০ টাকা মশারি না কিনলে ভবিষত এ আপনাকে মশা বাহিত রোগে কত টাকা এবং জামেলা পোহাতে হতে পারে তার একটি অতীত পরিসংখ্যান দেখিয়ে ।

মার্কেটিং-প্রমোশন

 

পাবলিক রিলেশণঃ

কোম্পানির ভাল  ইমেজ সৃষ্টির জন্য এ প্রমোশন টুলস টি ব্যবহার করা হয় ।অনেক সময় নানা প্রডাক্ট বা কোম্পানির নানা কাজের জন্য কোম্পানির ইমেজ নষ্ট হয় ।এ খারাপ ইমেজ থেকে উৎরান এর অন্যতম মাধ্যম হলো হল পাবলিক রিলেশান বা জনসংযোগ যেমন ডাচ -বাংলা ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি ।তাছাড়া কোন নির্দিষ্ট এলাকার কোন উন্নয়ন সাধন করে ,উন্নয়নের চিত্র আমরা প্রমোশন করতে পারি ।যেমন ,এক্স ওয়াই কোম্পানি রংপুরে ২ টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে ।তাছাড়া অনলাইনে পাবলিক রিলেশান এর অন্যতম একটি জায়গা ।যেমন উদ্ভাস কোচিং সেন্টার অনলাইনে ফ্রি কনটেন্ট এবং পরামর্শ মূলক ভিডিও ছেড়ে থাকে ,যাতে তাদের সম্পর্কে একটি ভাল ধারণা জম্নে ।এতে করে তাদের কোয়ালিটি জানান দেওয়া হচ্ছে ,সেই সাথে যাদের কোচিং করার সামর্থ্য নেই ,তারা সেখান থেকে সুবিধা নিচ্ছে ।পাবলিক রিলেশন এবং সেবার প্রচারণা দুই কাজই এক সংগে হচ্ছে ।

পারসোনাল সেলিংঃ

কোম্পানির সেলস পারসোন যখন সরাসরি কোন পণ্য বিক্রি করার জন্য ক্রেতাদের কাছে সরাসরি হাজির হয় তখন তাকে পারসোনাল সেলিং বলে ।পারসোনাল সেলিং লং টার্ম এর জন্য ভালো।পারসোনাল সেলিং এর ক্ষেত্রে ক্রেতাদলের নির্দিষ্ট তথ্য থাকতে হয় ।সেই তথ্যের ভিত্তিতে সেলস পারসোন কাজ করে ।যেমন বিভিন্ন বীমা এবং ইন্সুরেন্স কোম্পানি এ টুলটি ব্যবহার করে থাকে ।ডিরেক্ট  মার্কেটিং করার ফলে কিছু ফলোয়াপ ক্রেতা থাকে ,তাদের কাছে পারসোশান সেলিং বেশি কার্যকর ।তাছাড়া বর্তমান ক্রেতা কাছ থেকে তার মত অন্য আরো ক্রেতা পাওয়ার অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে পারসোনাল সেলিং ।কেননা পারসোনাল সেলিং এ ক্রেতার সাথে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে ওঠে ।যেমনঃ কোন ক্রেতার বাসায় আপনি একটি পণ্য বিক্রয় করে আসলেন ,যা থেকে সে ভাল উপকার পাচ্ছে ।তাহলে সে অবশ্যই তার বন্ধু বান্ধব বা নিকট আত্নীয়দের সমস্যা সমাধানে আপনার পণ্যটি রেফার করবে ।

 

 

 

 

 

মার্কেটিং-প্রমোশন

 

 

ডিজিটাল মার্কেটিংঃ

ডিজিটাল এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া  ব্যবহার করে যখন পণ্য ও সেবা সম্পর্কিত তথ্য ক্রেতাদের কাছে পৌছানো হয় ,তখন তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে ।ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম সুবিধা হচ্ছে কম খরচে টার্গেট অডিয়েন্সের নিকট পৌছানো সম্ভব ।ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে উপরের পাচ টি প্রমোশন ইন্টিগ্রেশান করা সম্ভব ।কিন্ত ডিজিটাল মার্কেটিং করার পূর্বে যথেষ্ট তথ্য এবং গবেষণা লব্ধ উপায় বা টেকনিক থাকা দরকার ।যার মাধ্যমে কম সময়ে অধিক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব । 

 

 

প্রমোশণ কৌশলঃ

প্রমোশণ কৌশল প্রস্ততির পূর্বে প্রমোশণ এবং কৌশল এই দুইটি শব্দের সংগে পরিচিত হওয়া দরকার ।প্রমোশণ এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো প্রচার বা উৎসাহদান করা ।প্রশ্ন এবং উওরের মাধ্যমে পুরো বিষয়টা জেনে নেওয়া যাক ।প্রথমত জানা যাক ,বিজনেসে কি প্রচার করা হয় ? স্বভাবতই উত্তর আসবে পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত নানা রকম তথ্য প্রচার করা হয় ।দ্বিতীয়ত,কাদের উদ্দেশ্যে তথ্য প্রচার করা হয় ?নিশ্চয়ই যাদের জন্য পণ্য তৈরি করা হয়েছে বা পণ্যটি যাদের সম্যসা সমাধান করতে পারবে ।এ দলটি কে মার্কেটিং এর ভাষায় টার্গেট মার্কেট,অডিয়েন্স ,বা ক্রেতাদল বলা হয় ।

মার্কেটিং এ প্রমোশণ বলতে সমস্যা সমাধানে সক্ষম এমন পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত তথ্য নির্দিষ্ট ক্রেতাদল বা অডিয়েন্সের নিকট পৌছানো এবং ক্রয়ে উৎসাহদান করার সামগ্রিক একটি প্রক্রিয়া ।অথ্যাৎ প্রমোশণ কে আমরা যোগাযোগ মাধ্যম বলতে পারি ।

 কৌশল কি ?

কোন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে সমস্ত পলিসি গ্রহণ করা হয়,তার সমষ্টিকে কৌশল বলে ।কৌশল নির্ধারণ করার পূর্বে লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন,লক্ষ্য কে ভিত্তি করে পলিসি নির্ধারণ করতে হয় ।তাহলে প্রমোশণ কৌশল কি তা ক্লিয়ার করা যাক ,নির্দিষ্ট বার্তা ক্রেতা দলের কাছে পৌছানো এবং তাদের ক্রয়ের দিকে ধাবিত করার জন্য যে সমস্ত পলিসি গ্রহণ করা হয়,তাকে প্রমোশণ কৌশল বলে।

 

ডিজিটাল প্রমোশন কৌশলঃ

ডিজিটাল প্রমোশনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক যন্ত্র এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রচার কার্য চালানো হয় ।অফলাইন এবং অনলাইন প্রচার কাজ নানা দিক থেকে ভিন্ন বিধায়,তার প্রয়োগ ক্ষেত্রেও ভিন্নতা দেখা দেয় ।ডিজিটাল প্রমোশন কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু মানদন্ড বজায় রেখে চলতে হয় ।কিছু কৌশল অবলম্বন করলে সুন্দর এবং কার্যকরি প্রচার কার্য করা সম্ভব ।

 

উল্লেখ যে,প্রচার কার্য (বিজ্ঞাপন,সেলস প্রমোশন,পারসোনাল সেলিং,ডিরেক্ট মার্কেটিং,পাবলিক রিলেশন এবং ডিজিটাল মার্কেটিং) এর সমন্বিত রূপ ।

 

ডিজিটাল প্রমোশনের কৌশলসমূহঃ

গবেষণাঃ   যে কোন কাজ করার পূর্বে,সে কাজ সমন্ধে গবেষণা করলে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার সম্ভবণা বেশি ।ডিজিটাল প্রমোশন এর ব্যতিক্রম নয়।প্রমোশন কৌশল প্রণয়নের পূর্বে ,প্রমশন সমন্ধে স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।প্রমোশন উপাদানগুলো বাস্তবে কি ভাবে ব্যবহার হয় ,তা বিভিন্ন কোম্পানির প্রমোশন থেকে শেখা ।তারপর বিভিন্ন প্রমোশন কোম্পানিগুলো কেন রান করছে তা বিশ্লেষন করতে হবে ।এতে যেমন তাদের উদ্দেশ্য যেমন জানা যাবে ,তেমনি বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করার প্রক্রিয়া টা সহজ হবে ।এটা অনেক টাসেকেন্ডারি ডেটার মত কাজ করে ।

 

টার্গেট অডিয়েন্সঃ     যাদের কে ঘিরে এত কর্মযজ্ঞ তারা হলো টার্গেট অডিয়েন্স বা ক্রেতাদল ।সহজভাবে বললে যাদের জন্য কোন প্রোডাক্ট বা সমস্যার সমাধান করা হয়,তারাই হলো ক্রেতা দল বা টার্গেট অডিয়েন্স বা টার্গেট মার্কেট ।প্রচার কার্য শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের তথ্য আপনার কাছে থাকতে হবে ।যত সংখ্যা মানের তথ্য থাকবে তত প্রচার কার্য ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে ।

এটার জন্য এক্সেল বা বিভিন্ন পরিসংখ্যান মডেল ব্যবহার করা যেতে পারে।এতে করে প্রমশন মনিটর করা সহজ হয় ।

প্রমোশন মিক্সের ব্যবহারঃ

টার্গেট অডিয়েন্স ঠিক পর যে কাজটি করতে হবে তা হলো প্রমোশন মিক্সের কোন উপাদান ব্যবহার করা হবে তা ঠিক করা।এটা লক্ষ্যের উপর নির্ভরশীল।লক্ষ্য যদি হয় ,সেলস বাড়ানো ,তাহলে আপনাকে সেলস প্রমোশন উপাদান টা ব্যবহার করতে হবে ।তেমনি কেউ যদি কোম্পানির ইমেজ বৃদ্ধি করতে চায় তার পাবলিক রিলেশান উপাদানটির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ।

 

প্রমোশনের  কপিঃ কপি হলো এমন কিছু তথ্যের সমন্বিতরূপ যা মানুষ কে চিন্তা করতে বা ইমোশনালি ডাইভারট করতে সাহায্য করে ।যেমন যখন আমরা বিভিন্ন কোম্পানি ডিসকাউন্ট ,অফার বা কনটেস্ট দেখি তখন আমাদের কিছু চিন্তার আবির্ভাব হয় ।যা আমাদের ইমোশানের সাথে জড়িত ।এখন কথা আসতে পারে যে বিভিন্ন জনের মনোভাব বিভিন্ন রকম আমি কি ভাবে সবার জন্য আলাদা আলাদা কপি তৈরি করব ।এখানেই খেলা টা বুঝতে হবে ।আপনাকে দৌড়াতে বললে আপনি দৌড়াবেন না ,কিন্ত যদি আপনার পিছনে একটা পাগলা কুকুর লেলিয়ে দেওয়া যায় ,আপনি অবশ্যই দৌড়াবেন ।আরো একটি উদাহরণ দেওয়া যাক ,ধরুন আপনাকে পানি ডুবিয়ে রাখা হলো ,আপনি কি চাইবেন অবশ্যই অক্সিজেন আপনি চাইতে বাধ্য হবেন ,কোন কিছু বিকল্প ভাবতে পারবেন না ।এমনি মানুষ কে কিছু ভাবাতে ডুবিয়ে রাখার মত কিছু টিগার আছে যার দরুন নির্দিষ্ট আচরণ করতে বাধ্য ।এর জন্য পড়াশোনা এবং পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে সাথে কপি লেখাসহ বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ চর্চা করতে হবে ।

 

চ্যানেল নির্বাচন ঃ

আপনার কাস্টমামের সমাগম কোথায় বেশি এটা নিশ্চিত হয়ে এক বা একাধিক  চ্যানেল নির্বাচন করতে হবে ।চ্যানেল নির্বাচন করা হলে যথাযথ কাজ করার মাধ্যমে প্রমোশান রান করতে হবে এবং সার্বক্ষনিক মনিটরিং করতে হবে ।যেমন ফেসবুক যদি আপনি সিলেক্ট করেন ।আপনার ফেসবুক এ্যাড পলিসি সাথে পরিচিত হতে হবে ।কোন এজেন্সী যদি হায়ার করেন সেটা ভিন্ন কথা ।সেই সাথে ফেসবুক ইনসাইটের ব্যবহার অবশ্যই জানতে হবে ,যার মাধ্যম এ্যাড কেমন কাজ করছে বা রেসপন্স কেমন তা বুঝার জন্য ।

Author

Write A Comment