নিজ এবং পর ( ব্যক্তিগত নোট )

 

নিজ এবং পর এই ব্যাপারটা বুঝতেই এতটা সময় চলে গেল জীবনের। নিজ এবং পর ব্যাপারটা একটা সম্পর্কের আকর্ষণ বল এবং সেই সাথে সেই সম্পর্কের জন্য আপনার সর্বোচ্চ সাক্রিফাইস এর মাত্রা দ্বারা নির্ধারিত হয়৷ ব্যাপারটা আপেক্ষিক এবং তা রক্ত দিয়ে বা কোন কিছু দিয়েই আবদ্ধ না।

জন্ম প্রক্রিয়া শুধু মাত্র কোটা যেটা সরাসরি আপনাকে নিজ সম্পর্কের সাথে সংযোগ করে দেয়। সেই সুত্রে বাবা মা কেবল মাত্র সার্বজনীন নিজ। নিজ আর পর এই ব্যাপারটা আপেক্ষিক এই কারনে যে আপনি যাকে নিজ ভাববেন সে আপনাকে নিজ নাও ভাবতে পারে। এই নিজ ভাবার কোন কারন থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। তেমনি করে পর ভাবার ও কোন কারন থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে৷ 

নিজ বন্ধু ও পর বন্ধুঃ নিজ বন্ধু এবং পর বন্ধু শুনে অবাক লাগতে পারে , তবে উভিয়েই বন্ধু হলেও নিজ বন্ধু আর পর বন্ধুর পার্থক্য গড়ে উঠে সহিষ্ণুতার মাপকাঠিতে । ধরুন আপনার একজন বন্ধুর সাথে আপনি খেলেন , ঘুরেন , খান ও এক সাথে এপর্যন্ত পর বন্ধু আর আপন বন্ধুতে পার্থক্য নাই । যখন দেখবেন সেই বন্ধু আপনার সাধারন স্বভাব কে বা কোন কাজকে সহ্য করবেন না তিনি আপনার পর বন্ধু খেয়াল করে দেখবেন সেই একই ব্যাপার গুলি আপনার সেই বন্ধু তার নিজ বন্ধুদের বেলায় সহ্য করছেন এবং তা হাসি মুখেই সহ্য করছেন ।

বরং সেই ব্যাপার গুলিতে একে অপরের সাথে শেয়ারিং পর্যায়ে আছেন । ব্যাপারটা অত সহজ না আবার জটিল ও না দুই এক মাস ভালো করে খেয়াল করলেই বের করতে পারবেন । যিনি সহ্য করছেন না তাকে যদি একই ধরনের ব্যাপার গুলিতে আপনি সহ্য করে চলেন তাহলে বুঝবেন আপনার অবচেতন মনে তিনি আপনার একজন নিজ বন্ধু হিসেবে লিস্টেড হয়ে আছেন । আবার আপনার সেই নিজ বন্ধুর মনে আপনি লিস্টেড নাও থাকতে পারেন আবার থাকতেও পারেন ।

এখানে ব্যক্তিগত ভাবে কোন দোষ কারো ঘাড়ে হয়ত সরাসরি পড়েনা । তবে চেস্টা করবেন আপনাকে সহ্য করা বা আপনার জন্য ত্যাগ স্বিকার করা বন্ধুর জন্য নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করতে যাতে আপনিও তার সকল কিছু সহ্য করতে পারেন । আর না পারলে সরাসরি প্রকাশ করায় ভালো যে আপনি তাকে নিজ ফ্রেন্ড ভাবছেন না । আমাদের বন্ধু সার্কেলে আমরা সাধারনত এগুলা না করে অভিনয় করে যায় যে সবাই আমার কলিজার বন্ধু ।

এই ভাবনা গুলিই এক বন্ধুকে আরেক বন্ধুর উপর অতি বিশ্বাসী করে তুলে । অতিবিশ্বাসী বলতে কোন বন্ধু কোন কাজের জন্য কি ভাববে তা নিজেই বিচার করাকে বুঝাচ্ছি । যেমন ধরেন আপনি আপনার বন্ধুর কোন একটা খাবার খেয়ে নিলেন এই ভেবে যে আরে ও আর কি মনে করবে !! এখন উত্তর দুই হতে পারে আপনি তাকে নিজ ভেবে খেয়ে ফেললেন কিন্তু সে আপনাকে নিজ বন্ধু হিসেবে দেখেনা তাহলে সে প্রকাশ না করলেও মনে মনে একটা মার্ক করে ফেলবে যে আপনি অনধিকার চর্চা করলেন ।

আমার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা অনেক ভয়ংকর আমি যাকে আপন ভাবি তার সাথে মিশে থাকি যাকে আপন মনে হয়না তার সাথে কোন এক্টিং করার দরকার পড়েনা তাকে স্পষ্ট বুঝতে দিই যে সে আমার ২য় ক্যাটাগরির মানে পর বন্ধু । কিন্তু এই যে আপেক্ষিক ব্যাপারটা যে আমি যাকে নিজ বন্ধু ভাবছি সে আমাকে নিজের বন্ধু ভাবে কিনা এটা নিয়ে কখনো ভাবিনাই আসলে এত মিলে মিশে সবার সাথে চলি যে এটা নিয়ে চিন্তার অবকাশ পাইনাই ।

কিন্তু গত নির্বাচনের পর থেকে কেমন জানি মানুষ যাচাই শুরু করেছি । কি দরকার অকারন ঝামেলা সাথে নিয়ে ? এরকম একটা চেতনা মাথার ভিতর ঢুকে গিয়েছে । একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি মানুষ চাইলেই তার অবচেতন মনের ধারনাকে পরিবর্তন করতে পারে যেটা আমি আগে কখনো করিনি । তবে এখন সবকিছুই মেনে নিয়ে সব কিছু ঢেলে সাজানোর চেস্টায় আছি । সে অনুসারে কয়েকটি শ্রেনীতে বন্ধু গুলিকে ঢেলে সাজিয়েছি এবং ব্রেনে ইনপুট দিয়ে দিয়েছি , আশা করছি তা ভালমত কাজ করবে । কয়েক মাস আগে আমার বড় ভাই 

বলেছিল তার ঢাকায় থাকা সময় কালীন তার নিজ বন্ধু সমাজের ব্যাপারে , আমি আসলে তখন ব্যাপারটা কে এত সিরিয়াস নিই নাই আসলে বুঝিই নাই এই ব্যাপার গুলি এত কস্টদায়ক । এখন সব কিছু অনেক পরিস্কার । ভাইকে ধন্যবাদ প্রাথমিক ভাবে সতর্ক করে দেবার জন্য । তবে এত দ্রুতই ব্যাপার গুলি নজরে চলে আসবে এটাও ভাবিনি । 🙂 

সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি কেমনঃ 

আমি আসলে সবার সাথে মিশে চলি তবে আমি খুউউউব পার্সোনিফাইড মানুষ , যাকে পছন্দ করি ( সব কিছু বুঝে দেখে শুনে) তার সাথে মিশে চলি , যাকে পছন্দ বা অপচ্ছন্দ কোনটাই করিনা তার সাথে চলিনা । এক্ষেত্রে আমি সৎ মানুষ , বা পরপোকারী কিংবা আমাকে উপকার করেছে এমন মানুষদের কেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি । পার্সোনিফাইড বলতে কি বুঝাচ্ছি সেটা একটু ক্লিয়ার করা দরকার ।

ধরেন একটি পরিবার , প্রতিষ্ঠান , বা আমার কর্মক্ষেত্রে অনেকের সাথে আমার পরিচয় বা ভালো সম্পর্ক , আমার অবচেতন মন থেকে তাদের একটা ক্রম তৈরি করে দেই যেমন ধরেন টপ , সেকেন্ড টপ , থার্ড টপ এর পর আর থাকেনা , মানে যেকোন পরিবেশ এ আমার সাথে ভালো সম্পর্ক খুব গুটি কয়েক মানুষের সাথেই হয় । এখন এই ক্রমই আসলে ঐ নির্দিষ্ট পরিবেশ বা প্রতিষ্টান কিংবা সার্কেল এ আমি আসলে কার সাথে পার্সোনিফাইড তা নির্দিষ্ট করে দেই ।

এখন এই যাদের ব্যাপারে আমি এরকম সেন্সিটিভ তাদের জন্য আমি যে কোন কিছু করতে পারি , তাদের সাথে আমার যে সম্পর্ক তার মুল্য আমার কাছে অন্য যেকোন কিছুর চেয়ে অনেক বেশি । আমি কোন ভাবেই তাদের সাথে আমার সম্পর্ক নস্ট হোক এমন চাই না । ব্যাপারটা জীবন এর খুব শুরু থেকেই ছিল কিন্তু আমি ইদানিং ব্যাপার গুলা বুঝতে শিখেছি । আরো পরিষ্কার করে বললে আমার পরিচিত জনেরা বুঝবেন ।

খুব ছোট বেলা থেকে পরিবারে আমি আমার বড় ভাই কে এরকম মেনে এসেছি মানে পরিবারের অন্য কে কি বলে তার চেয়ে বড় ভাই কি বলে এটা মুখ্য ছিল , একটা ঘটনা দিয়ে ভাইয়ার সাথে পার্সোনিফাইড এই সম্পর্কের গুরুত্বটা বুঝতে পারবেনঃ ভাইয়া আমাকে আমাদের বাজারের দোকানে বসে পড়াতেন । তো খুব সকালে পড়া শুরু হয়ে আব্বা আসার আগ পর্যন্ত পড়া চলত । তো ভাই একবার কিছু ভকোবুলারি পড়তে দিয়ে কি একটা কাজ খুব মনোযোগ দিয়ে করছে । আমি খালি বলেই যাচ্ছি আমার পড়া শেষ । তো ভাই এলিফ্যান্ট এর স্পেলিং জিজ্ঞাসা করল এবং যথারিতি আমি পারিনাই 😛 এর পর ভাইয়ার সামনে স্ক্রুড্রাইভার ছিল ছুড়ে মারলেন যা আমার পায়ের পাতা বরাবর গেথে গেল ।

ঙ্কিন্তু আমি দেখলাম আব্বু চলে আসছে দোকানের সামনে বরাবর , আমি জানি আব্বা যদি দেখে ভাইয়াকে খুব পিটাবে তো আমি স্ক্রু ড্রাইভার খুলে হাত দিয়ে জায়গাটা চেপে ধরে ভাইকে ইশারা করলাম যে বাসু ডাক্তারের দোকানে নিয়ে যেতে এবং ভাইয়া নিয়ে গেল পরে ব্যান্ডেস করে সোজা নানির বাসায় । এই ঘটনা শেয়ার করলাম যাতে ঐ সম সাময়িক সময়ে একজন পার্সোনিফাইড সম্পর্ক গুলির উপর আমার একাগ্রতা কত ছিল সেটা বোঝানোর জন্য । গতানুগতিক নতুন যেখানেই গিয়েছি একজনকে এরকম পার্সোনিফাইড ভাবে কেয়ার করেছি ।

তবে ব্যাপার হচ্ছে যাদেরকে এই পার্সোনিফাইড ভাবে কেয়ার করি বা করেছি তাদের কখনো স্পেসিফিক ভাবে বলে দেইনাই । অনেকে বুঝতে পারে নিজে নিজেই অনেকে সেটা কেয়ারই করেনা । পরিবারের পর যে সার্কেলটা আসত সেটা হচ্ছে বড় ভাই এর বন্ধুগুলা মানে গ্রামে যত বড় ভাই আসে সব মিলে একটা সার্কেল এই সার্কেলে একজন পার্সোনিফাইড ব্যক্তি আছেন যাকে আমি ঐ সম পরিমান কেয়ার করে আসছি এবং তা সারাজীবন অব্যাহত থাকবে । এর পর আরো একটু এক্সপ্লোর করেছি যখন প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম । সেখানে নাজমুল চাচা ( ক্লাস মেট ) এর সাথে সম ভাবে একটা পার্সোনিফাইড সম্পর্ক গড়ে উঠেছে , তেমনি মাধ্যমিকে শাকিল জেব , কলেজ এ যেহেতু যাই নাই তাই কলেজে এমন কোন ফ্রেন্ড নাই ।

প্রাথমিক ভাবে কম্পিউটার শেখা ও বাজারে থাকা এই সময়টাতে মনির চাচা ( যার থেকে প্রাথমিক কম্পিউটার শিখেছি ) এর সাথে একই রকম একটা পার্সোনিফাইড সম্পর্ক গড়ে উঠেছে । এর পরে ঢাকার ম্যাচ জিবনে আসার পর মহিদুল ভাই এর সাথে একই রকম একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, অনার্স লাইফ এ আমার একটাই বন্ধু হাসান , মেয়ে বন্ধুদের মধ্যে মিতু । এর পর ইক্যাব এ এসে রাজিব ভাই এর সাথে এরকম সম্পর্ক গড়ে উঠেছে , দিনরাত্রি তে এসে শিপন স্যার এর সাথে , পরে যখন অফিস রি ডেকোরেট করা হলো তখন হিমেল ভাই এর সাথে , পরবর্তিতে রিয়াদ ভাই এর সাথে এরকম সম্পর্ক গড়ে উঠেছে আমার । এর পর অফিস সম্প্রসারন করে যখন ৭ তলায় চলে গেলাম ওখানে রিয়াজ ভাই এর সাথে এই সম্পর্ক টা তৈরি হয়েছে । এর বাইরে কম্পিটার ইন্ড্রাস্টিতে ( কেনাকাটায় যেয়ে ) জয় ভাই এর সাথে এ ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ।

বন্ধু সার্কেলেও এরকমই সম্পর্ক ছিল 🙁 । এরকম করে নতুন যেখানেই যায় একজন করে পার্সোনিফাইড লোক তৈরি হচ্ছে , ভবিষ্যৎ এ ও এরকম হবে হয়ত । এই সম্পর্ক গুলি আমার বিশাল এক ভরসার যায়গা , যে খুটি গুলির উপর ভরসা করি যে যাই হোক যত কঠিন সমস্যায় আসুক এই সম্পর্ক গুলি কখনো আমাকে বিপদে দেখতে চাইবেনা । তবে যেহেতু এমন একটা পর্যায়ে চলে আসছি যেখান থেকে আমি নিজেই যাচাই বাছাই করে মানুষের সাথে মেশার চেস্টা করব ।

এই কম সংখ্যক মানুষ গুলির কাছে আমার একটাই দাবি আমার কোন কিছু খারাপ লাগলে সরাসরি একটু নরম করে বলবেন , আপনাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই এই পর্যায়ে এসেছি । সবাই না জানলেও আপনারা কস্ট দিলে খুব বাজে লাগে । অন্য যে কেউ যাই বলুক আমার তাতে কোন কিছুই যায় আসে না । আমি এক কান দিয়ে শুনে অন্যটা দিয়ে উড়াই দিই । কেউ আন্সমার্ট বল্লেও কিছু যাই আসেনা , খ্যাত বল্লেও কিছু যায় আসেনা ।

শর্ট লিস্টের মানে যাদের কে ঘিরে আমার সকাল টা রাত হয় তারা বকা দিলে , কিংবা কস্ট দিলে খুব বাজে লাগে এবং এই বাজে লাগাটা অনেক দিন খালি মনে লেগে থাকে , এর পর এক সময় ভুলে যায় । আমি এত কিছু লেখার উদ্দেশ্য এই যে কোন দিন যদি এই লম্বা লেখাটা আপনি কেয়ার করে পড়েন তাহলে আপনাকে এই টুকু জানানো যে আমার এই অগোছালো জীবন , অনধিকার চর্চা কিংবা , যত অসঙ্গতি আছে তা আমি ইঞ্জয় করি প্রচুর ইঞ্জয় করি

এর পরেও আপনাদের যদি মনে হয় আমার কোন অসংগতি চেঞ্জ করা দরকার তাহলে সরাসরি বলবেন । আপনাদের কথায় কত বড় বড় অভ্যাস চেঞ্জ করেছি আপনারা নিজেরাই একটু ভেবে দেখলে বুঝতে পারবেন ।

খেয়াল করে দেখেছি এখন পর্যন্ত যত জনের সাথে আমার সম্পর্ক এরকম পার্সোনিফাইড তাদের সাথে সম্পর্ক গুলি কখনো ক্ষতি গ্রস্থ হয়নাই বা আমিই হতে দিই নাই । কেয়ারিং কখনো চেয়ে পাওয়া যায়না । আমি আমার এন্ড এর কথা গুলি লিখালাম কোন একদিন ফিরে দেখতে । 

আমার জন্য দোয়া রাখবেন বরাবরের মতই ।

Author

Write A Comment